বর্তমানে প্রথিবীর বিভিন্ন দেশে অনলাইনে আয়ের অন্যতম উতস আউটসোর্সিং । তবে বাংলাদেশের অনেকের কাছেই এখনো বিষয়টি অজানা। অনলাইনে আউটসোর্সিং - এর মাধ্যমে যখোন তখন আয়ের উপায় জানুন এখানে ।।।
* আউটসোর্সিং কী ?
ইন্টারনেট এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কাজ করে । নিজ প্রতিষ্ঠান এর বাহিরে অন্য কাউকে দিয়ে এসব কাজ করানোই আউটসোর্সিং বলে । জারা আউটসোর্সিং কাজ করে দেন তাদেরকে ফ্রিল্যান্সার বলে । ফ্রিল্যান্সার মানে মুক্ত পেশাজীবী । আউটসোর্সিং এর কাজের খোঁজে থাকে , এমন সাইটে জিনি কাজটা করে দেন তাকে বলা হয় কন্ট্রাকটর । আর জিনি কাজ দেন তিনি হলেন বায়ার / এমপ্লয়ার।
* যে ধরনের কাজ পাওয়া যায়
আউটসোর্সিং সাইট বা অনলাইন মার্কেট প্লেসে কাজগুল বিভিন্ন ভাবে করা থাকে।
যেমন:- ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, নেটওয়ার্কিং ও তথ্যব্যবস্থা, লেখা ও অনুবাদ, প্রশাসনিক সহায়তা, ডিজাইন ও মাল্টিমিডিয়া, গ্রাহকসেবা, বিক্রয় ও বিপণন, ব্যবসাসেবা ইত্যাদি।
* কোন কাজের কী যোগ্যতা
- ওয়েব ডেভেলপমেন্ট
এ কাজের জন্যে ওয়েব সাইট বানানো জানতে হবে। বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ভাষা যেমন : Html / PHP / Javascript / CSS / MySkil ইত্যাদি সম্পকে ভালে ধারনা থাকতে হবে। এই ভাষা গুলোর উপর দু-একটি পরিক্ষা দেওয়া থাকলে কাজ পেতে সুবিধা হয়।
- সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট
সফটওয়্যার বানানোর করা জানতে হবে। বিভিন্ন প্রোগ্রামিং এর ভাষা যেমন : জাভা, সি শার্প, ভিজুয়াল বেসিক, মাইএসকিউএল, ওরাকল, এসকিউএল সার্ভার ইত্যাদি। সম্পকে ভালো ধারণা থাকতে হবে।
-নেটওয়ার্কিং ও ইনফেকশন সিষ্টেম
ডাটাবেইস, নেটওয়ার্কিং ইত্যাদি সম্পকে ভালো ধারনা থাকতে হবে। তবেই নেটওয়ার্কিং ও ইনফেকশন সিষ্টেম বিষয়ক নানা কাজ পাবেন। ।।
- লেখা ও অনুবাদ
এ ধরনের কাজের জন্যে ইংরেজিতে দক্ষ হতে হবে, কারিগরি ঙ্গন থাকতে হবে, ওয়েব সাইট, ব্লগ, ইন্টারনেট সম্পকে ভালো ঙ্গন থাকতে হবে। লেখা-লেখির অভ্যাস থাকলে ভালো হয় ।।
- অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সাপোর্ট
এ বিভাগের কাজগুল তুলনামূলক ভাবে অনেক সহজ। মূলত কপি পোষ্টের কাজ। কম্পিউটার, ইন্টারনেট, ওয়েবসাইট, ব্লগ, ই-মেইল, ফেসবুক, টুইটার এসব সম্পকে ভালো ধারনা থাকতে হবে।
-ডিজাইন ও মাল্টিমিডিয়া
আপনাকে গ্রাফিক্স এর কাজ জানতে হবে। মূলত ফটোশপ, ইলাস্ট্রেট, ইন-ডিজাইন, ফ্ল্যাশ ইত্যাদি জানা থাকলে লোগো ডিজাইন, গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এর কাজ খুব সহজে করা জায়।।
-গ্রাহকসেবা
এ বিভাগে কাজের জন্যে আপনাকে ইংরেজি তে দক্ষ হতে হবে। দ্রুত ইংরেজিতে কথা বলা বা লেখা, দুটোতেই দক্ষ হতে হবে।
-বিক্রয় ও বিপণন
ই-কমাস সাইট সম্পকে ভালো ধারনা থাকতে হবে। ই-কমাস ওয়েবসাইট, ব্লগ, ই-মেইল, সামাজিক যোগায়োগ, বিপণন, এসইও ইত্যাদি সম্পকে ভালো ধারনা থাকতে হবে।
-কাজের জন্যে যেভাবে আবেদন
ওয়েব বা পত্রিকায় কোন চাকরী বা কাজের বিঙ্গাপন পছন্দ হলে অনেকেই সেখানে 'সিভি' পাঠান। কোন একটা পদে 1-2 জনকে নিয়োগ দেন, কিন্তু সেখানে অনেকেই সিভি পাঠান কিন্তু চালরিদাতা কিছু সিভি বাছাই করে তাদের সাক্ষাতকার এর জন্যে ডাকেন তারপর সেখানথেকে এক বা দুইজন কে কাজ দেন। তেমনি আউটসোর্সিং সাইটে জখন কোন কাজের ঘোষনা দেওয়া হয়, তখন অনেকেই আবেদন করেন তাদের মদ্ধেথেকে বায়ার কয়েকজনের সাক্ষাত নেন, তারপর এক বা দুইজন কে কাজটা করতে দেন। এই প্রক্রিয়াকেই বলা হয় বিল্ডিং বা বিল্ড করা।
-ওডেস্ক ও আউটসোর্সিং
আউটসোর্সিং কাজ দেয়া-নেওয়ার জনপ্রিয় জায়গা হল ওডেস্ক। বিভিন্ন মার্কেট প্লেসের মদ্ধে ওডেস্ক এর অবিস্থান শীর্ষ। 2004 সালে কেলেফোনিয়ায় জাত্রা শুরু হয় প্রতিষ্ঠানটির। ইন্টারনেট ভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান মুলত পেশাজীবী ও কাজদাতা প্রতিষ্টানের মদ্ধে যোগায়োগ ঘটিয়ে দেয়।।
** আউটসোর্সিং-এ বাংলাদেশ
ধীরে ধীরে অনলাইন আউটসোর্সিং কাজে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা এবার নিজেদের দক্ষতার জায়গা করে নিয়েছেন শীর্ষ তালিকায়। প্রতিনিয়ত নানা কাজের মাদ্ধমে এগিয়ে জাচ্ছেন তরুণ ফ্রিল্যান্সাররা। ২০১১ সালে পুরা প্রীথিবী র মদ্ধে ওডেস্ক বাংলাদেশ - এর অবস্থান ছিল চতুর্থ। তার আগের বছর ২০১০ সালে অবিস্থান ছিল ৩য় । এছাড়া ২০১০ সালে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গার্টানারের আউটসোর্সিং এর শীষ তালিকায় বাংলাদেশ প্রথমবারের মত স্থান পায়। সৃজনশীলতা উন্মেষ ঘটিয়ে, ক্যারিয়ার গঠনের প্রতয়ে, স্লোগান দেশে প্রথমবারের মত ১৭ নভেম্বর ২০১২ অনুষ্ঠিত হয় ফ্রিল্যান্সার অনলাইনে ক্যারিয়ার বিষয়ক সম্মেলন 'আউটসোর্সিং সমিট ২০১২' ।।